কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া ভূমি অফিসের “নাজির” রাসেল দত্ত ও নাইট গার্ড শহিদ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিও, ভিডিও ফুটেজে ঘুষ লেনদেনসহ একাধিক দূর্নীতির অভিযোগ এখন কক্সবাজারের “টপ অব দ্যা নিউজ” পেকুয়া ভূমি অফিস এখন দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য। ভিডিও, অডিও তে ঘুষ লেনদেনের কথোপকথন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে যা স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা ক্ষোভে ফুসে উঠেছে।
নাইট গার্ড শহিদ সরকারি কোন কর্মচারী নয়, মেয়াদহীন প্রকল্পের। তার দায়িত্ব শুধুমাত্র রাতে অফিস পাহারা দেওয়া কিন্তু সেও যদি অফিসারের মত দিনের বেলায় চেয়ার টেবিল নিয়ে বিভিন্ন নথিপত্রে ঘষামাজা করে আগত সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ঘুষ লেনদেন করে বীরদর্পে। এমনকি দর কষাকষি করে নিজের হাতে গুনে ঘুষের টাকা বুঝে নিচ্ছে।
রাসেল দত্ত, অফিসের নাজিরের দায়িত্বে, ভিডিও তে তার ঘুষ গ্রহনের চিত্রও স্পষ্ট। আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত রাসেল দত্ত একজন ইস্কনের সক্রিয় সদস্য বলে বিভিন্নমহলের দাবী। রাসলে দত্ত প্রতিদিন রেকর্ডরুম থেকে গোপনে নথি পাচারের মাধ্যমে ১৫-২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে (যা অফিসের সিসি ক্যামরায় অনুসন্ধানে প্রমান মিলবে)।
এ বিষয়ে রাসলে দত্তের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি উচ্চস্বরে বলেন, আপনারা যা পারেন করেন, যা পারেন লিখেন, আপনাদের কত নিউজ দেখলাম!!!! আমার বলার কিছু নাই।
নাইট গার্ড শহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখানে নাজির আমাকে যে-ভাবে টাকা তুলতে বলে আমিও সেভাবে করি, এগুলো নাজির আর এসিল্যান্ড জানে, আমি শুধুমাত্র তাদের কথায় টাকা নিয়েছি। নথির বিষয়ে জানায় নাজির নিজেই তাকে দিয়ে নথি বের করতে বলেন এবং টাকা পয়সা নাজির নিজেই নেয় বলে জানান (যা ভিডিও তে স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে)
এছাড়া, পেকুয়া ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর পেয়ারা বেগমের সাথে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
পেকুয়া ভূমি অফিসের দূর্নীতিবাজ ২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অপসারণের জোর দাবী জানাচ্ছে। ভোক্তভোগিরা বলেন, রাসেল দত্ত একজন ঘুষখোর কর্মচারী তাকে টাকা না দিলে ফাইল গায়েব করে ফেলে এবং খুব খারাপ আচরণ করে আর নাইট গার্ড শহিদকে খতিয়ানের জন্য এবং নথির জন্য মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। এদের কারণে আজ এ ভূমি অফিসের দূর্নাম ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্রে।
তাদের বিরুদ্ধে সমন্বয়ক, দুদক, কমিশনার অফিস, ডিসি অফিস বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবী দুদকের অভিযানের মাধ্যমে এই ২ ঘুষখোর রাসেল দত্ত ও নাইট গার্ড শহিদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বরখাস্ত করলে অফিসের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আসবে এবং সাধারণ স্বস্তি পাবে।
মন্তব্য করুন